প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কক্সবাজার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করা অপরিহার্য। অন্যথায় জনমনে হতাশা বাড়বে এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। তবে স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে, এ দেশের মানুষ বারবার ভোটের অধিকার ও সুশাসনের জন্য লড়াই করেছে। ২০২৬ সালের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এসেও সেই একই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা থেকে নির্বাচনি স্বচ্ছতার দাবি জোরালো হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আযাদ বলেন, "২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র জমার নির্দেশ দিলেও অবৈধ অস্ত্র ও লুণ্ঠিত গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, মাগুরায় সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলার মতো ঘটনা জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের উচিত কোনো ধরনের দলকানা ভূমিকা না রেখে দৃশ্যমান ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, "নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা ছাড়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।" তিনি সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, "নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জনগণের আমানত।"
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে জামায়াতে ইসলামীর আমীরের নির্বাচনি সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় ড. আযাদ অভিযোগ করেন যে, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ শঙ্কিত। তিনি নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ এবং গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য প্রচারে দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানান।
জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও মিডিয়া প্রধান আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সাবেক আমীর মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সূত্র: ১. জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া উইং এবং কক্সবাজার জেলা শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (২৩ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নিরাপত্তা নির্দেশিকা (জানুয়ারি ২০২৬)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: স্বাধীনতা থেকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান (জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও আর্কাইভ)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |